পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস ইলিশসহ সব মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে পদ্মা নদী ও মেঘনা নদী সংলগ্ন এলাকায় দুই মাসের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণের অংশ হিসেবে মতলব উত্তর উপজেলা-এর ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলা-র চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ এলাকায় নিবন্ধিত প্রায় ৪৭ হাজার জেলে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন।
কাজ হারানো জেলেদের সহায়তায় ৩৯ হাজার ৪০০ জনকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে তারা প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১২০ কেজি চাল পাবেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মেঘনা উপকূলীয় জেলে পল্লীতে কথা হয় কয়েকজন জেলের সঙ্গে। জেলে জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও নৌকা ডাঙায় তুলে রাখেন। তবে প্রাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, মাছ ধরাই তাদের একমাত্র জীবিকা। শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন। সন্তানের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে চরম সংকটে পড়তে হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কাজ করবে। কেউ জাটকা ধরলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা নিধন বন্ধে নৌ পুলিশ সক্রিয় থাকবে। নৌ সীমানায় আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ইলিশের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।