পাবনায় ৮ কুকুরছানা হত্যা: গ্রেপ্তার সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি কারাগারে
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নিশি রহমানকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় তাকে ঈশ্বরদী থানা থেকে পাবনার আমলি আদালত-২-এ সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তিরিকুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন নিশি রহমানকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিশি রহমান ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
পাবনার ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুকুরের চিৎকারে বিরক্ত হয়ে নিশি রহমান ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরপাড়ে রেখেছিলেন। কে কুকুরগুলো পুকুরে ফেলেছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের একটি কোনায় ‘টম’ নামে কুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে থাকত। এক সপ্তাহ আগে টম আটটি বাচ্চা প্রসব করে। সোমবার সকাল থেকে মা কুকুরকে ছানাগুলো খুঁজতে পাগলপ্রায় অবস্থায় দেখা যায়। পরে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা জানতে পারেন, নিশি রহমান রবিবার রাতে জীবন্ত আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে উপজেলা পুকুরে ফেলে দেন। পরের দিন সকালে পুকুর থেকে কুকুরছানাগুলোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে গেজেটেড কোয়ার্টার ছাড়তে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা মঙ্গলবার বিকেলে বাসা খালি করে অন্যত্র চলে যান।